সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও বাণিজ্যনগরী চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলাচলকারী বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম দ্রুতগতির ও আধুনিক বিলাসবহুল আন্তঃনগর ট্রেন হলো সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। ২০১৬ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর থেকেই ট্রেনটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের যাত্রীসাধারণ, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের কাছে সময়নিষ্ঠা ও আরামদায়ক ভ্রমণের অনন্য প্রতীক হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিটে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে যাতায়াত করার জন্য এটি অন্যতম শীর্ষ পছন্দ। আপনি যদি ব্যবসায়িক কিংবা পারিবারিক কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম কিংবা চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে ট্রেন ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে যাত্রার পূর্বেই ২০২৬ সালের সর্বশেষ অফিশিয়াল সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬, সাপ্তাহিক ছুটির দিন, বগি বিন্যাস ও অনলাইন টিকিট বুকিং পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা জরুরি।
⚡ এক নজরে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (২০২৬ হালনাগাদ সারসংক্ষেপ)
- ট্রেন নম্বর: ৭৮৭ (চট্টগ্রাম টু ঢাকা) এবং ৭৮৮ (ঢাকা টু চট্টগ্রাম)
- ঢাকা থেকে ছাড়ার সময়: সকাল ০৭:০০ টা (চট্টগ্রাম পৌঁছায় দুপুর ১২:১৫ মি.)
- চট্টগ্রাম থেকে ছাড়ার সময়: বিকাল ০৫:০০ টা (ঢাকা পৌঁছায় রাত ১০:১০ মি.)
- সাপ্তাহিক ছুটির দিন (Off Day): প্রতি বুধবার (বুধবার উভয় দিকেই ট্রেনটি বন্ধ থাকে)
- মোট যাত্রার সময়: মাত্র ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট (নন-স্টপ বিরতিহীন সার্ভিস)
- টিকিটের বর্তমান ভাড়া: শোভন চেয়ার ৫০৫৳, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) ৯৬৯৳ (খাবার বিল অন্তর্ভুক্ত)

সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ (আপ ও ডাউন)
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল টাইমটেবিল অনুযায়ী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করে। নিচে ট্রেনটির আপ (৭৮৭) ও ডাউন (৭৮৮) উভয় দিকের বিস্তারিত সময়সূচী তুলে ধরা হলো:
| ট্রেন নম্বর ও নাম | প্রারম্ভিক স্টেশন | ছাড়ার সময় | গন্তব্য স্টেশন | পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক বন্ধের দিন |
|---|---|---|---|---|---|
| সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (৭৮৮) | ঢাকা (কমলাপুর) | সকাল ০৭:০০ মি. | চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন | দুপুর ১২:১৫ মি. | বুধবার |
| সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (৭৮৭) | চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন | বিকাল ০৫:০০ টা | ঢাকা (কমলাপুর) | রাত ১০:১০ মি. | বুধবার |
যাত্রাপথের স্টপেজ ও বিরতি স্টেশন নির্দেশিকা
সোনার বাংলা এক্সপ্রেস মূলত একটি পূর্ণাঙ্গ বিরতিহীন (নন-স্টপ) এক্সপ্রেস ট্রেন। অর্থাৎ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাত্রাপথে ট্রেনটির কোনো বাণিজ্যিক স্টপেজ নেই। তবে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী যাত্রাপথে (৭৮৭) যাত্রীদের সুবিধার্থে বিমানবন্দর স্টেশনে নির্ধারিত ২ মিনিটের যাত্রাবিরতি দেওয়া হয়। আপনি যদি ঢাকার কমলাপুর স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম বিন্যাস কিংবা পার্কিং সুবিধা সম্পর্কে জানতে চান, তবে আমাদের বিস্তারিত কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঢাকা গাইড দেখে নিতে পারেন। একইভাবে বিমানবন্দর ট্রানজিটের জন্য ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন গাইড অত্যন্ত সহায়ক হবে।
সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬ (খাবারসহ)
সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের সাথে বাধ্যতামূলক স্ন্যাক্স ও খাবার বিল যুক্ত থাকে। রেলওয়ের নিয়মানুযায়ী মূল ভাড়ার সাথে ক্যাটারিং চার্জ যুক্ত হয়ে মোট টিকিটের মূল্য নির্ধারিত হয়। ২০২৬ সালের হালনাগাদ ভাড়ার চার্ট নিচে প্রদান করা হলো:
| আসন বা বগির শ্রেণি | মূল রেলওয়ে ভাড়া | বাধ্যতামূলক ক্যাটারিং ফি | সর্বমোট অফিশিয়াল ভাড়া |
|---|---|---|---|
| শোভন চেয়ার (Shovon Chair) | ৪৫০ টাকা | ৫৫ টাকা | ৫০৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ৮৬৩ টাকা | ১০৬ টাকা | ৯৬৯ টাকা |
| এসি সিট (AC Seat) | ১০৩৫ টাকা | ১৩০ টাকা | ১১৬৫ টাকা |
| এসি বার্থ / কেবিন (AC Berth) | ১৫৫৩ টাকা | ১৮৭ টাকা | ১৭৪০ টাকা |
উল্লেখ্য: অনলাইনে ই-টিকিট পোর্টাল (eticket.railway.gov.bd) কিংবা সহজ রেলসেবা অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট কাটলে প্রতি আসনের জন্য ব্যাংক ও গেটওয়ে চার্জ বাবদ অতিরিক্ত ২০ টাকা প্রসেসিং ফি যুক্ত হবে।
বগি ও আসন বিন্যাস (Coach Layout)
সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে আধুনিক ইন্দোনেশিয়ান পিটি ইনকা (PT Inka) লাল-সবুজ আধুনিক এয়ারব্রেক কোচ সংযোজিত রয়েছে। এতে মোট ১৬টি সুসজ্জিত বগি থাকে:
- শোভন চেয়ার বগি: মোট ৭টি শোভন চেয়ার কোচ রয়েছে, যাতে ২x২ আধুনিক ফোল্ডিং সিট ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রয়েছে।
- স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) কোচ: ৪টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক কোচ, যেখানে শব্দহীন ভ্রমণ ও মৃদু আলোর ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- এসি সিট ও বার্থ: দূরপাল্লার আরামদায়ক কেবিন যাত্রীদের জন্য সুনির্দিষ্ট এসি প্রথম শ্রেণির কামরা।
- পাওয়ার কার ও প্যান্ট্রি কার: ট্রেনের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে পাওয়ার কার এবং স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের জন্য আধুনিক চলন্ত ডাইনিং কার রয়েছে।
অনলাইনে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম
বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী যাত্রার ১০ দিন পূর্বে সকাল ০৮:০০ টায় পূর্বাঞ্চলীয় রুটের অনলাইন টিকিট উন্মুক্ত করা হয়। খুব সহজে ঘরে বসে টিকিট কাটতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) কিংবা Rail Sheba মোবাইল অ্যাপে লগইন করুন।
- যাত্রা শুরুর স্টেশন হিসেবে Dhaka এবং গন্তব্য হিসেবে Chattogram নির্বাচন করুন (কিংবা বিপরীতমুখী যাত্রা হলে তদ্বিপরীত)।
- আপনার ভ্রমণের কাঙ্ক্ষিত তারিখ এবং পছন্দের আসন শ্রেণি (শোভন চেয়ার বা স্নিগ্ধা) বাছাই করে Find Ticket বাটনে ক্লিক করুন।
- উপলব্ধ ট্রেনের তালিকা থেকে Sonar Bangla Express (788/787) খুঁজে আপনার পছন্দের বগি ও সিট নম্বর সিলেক্ট করুন।
- বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা যেকোনো ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে খাবার চার্জসহ নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ সম্পন্ন করুন।
- পেমেন্ট সফল হলে আপনার ইমেইল ও ড্যাশবোর্ডে ই-টিকিট ডাউনলোড অপশন আসবে। যাত্রার সময় ফোনে টিকিট ডাউনলোড করে দেখালেই প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করা যাবে।
জরুরি ভ্রমণ টিপস ও ১৬৩১৮ এসএমএস ট্র্যাকিং পদ্ধতি
সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের বর্তমান অবস্থান ও সম্ভাব্য বিলম্ব ট্র্যাক করার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল এসএমএস ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করতে পারেন। যেকোনো মোবাইল অপারেটরের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন:
এসএমএস ফরম্যাট: TR 788 (ঢাকা টু চট্টগ্রাম) অথবা TR 787 (চট্টগ্রাম টু ঢাকা) লিখে পাঠিয়ে দিন 16318 নম্বরে। ফিরতি বার্তায় ট্রেনের বর্তমান স্টেশন ও গতিবেগ জানিয়ে দেওয়া হবে।
আপনি যদি একই রুটের রাতের ট্রেন খুঁজছেন, তবে আমাদের তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ পোস্টটি দেখে নিতে পারেন। অথবা দিনের অন্য বিরতিহীন ট্রেন সম্পর্কে জানতে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ বিস্তারিত দেখে নিন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কবে?
সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধের দিন (Off Day) হলো প্রতি বুধবার। বুধবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় দিক থেকেই ট্রেনটি চলাচল বন্ধ থাকে।
ঢাকা থেকে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (৭৮৮) প্রতিদিন সকাল ০৭:০০ টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং দুপুর ১২:১৫ টায় চট্টগ্রাম পৌঁছায়।
সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের টিকিটের সাথে কি খাবার বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল নিয়মানুযায়ী সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের টিকিটের সাথে খাবার বিল অন্তর্ভুক্ত থাকে। শোভন চেয়ারে ৫৫ টাকা এবং স্নিগ্ধা কোচে ১০৬ টাকা ক্যাটারিং চার্জ যুক্ত থাকে।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের কত সময় লাগে?
সরাসরি বিরতিহীন চলাচলের কারণে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি মাত্র ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছে যায়।
সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে কি বিমানবন্দর স্টপেজ আছে?
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী যাত্রাপথে (৭৮৭) ট্রেনটি বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রীদের নামার জন্য নির্ধারিত যাত্রাবিরতি প্রদান করে। তবে ঢাকা থেকে ছাড়ার সময় কোনো মধ্যবর্তী স্টপেজ থাকে না।
