সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬

রাজধানী ঢাকা থেকে বাণিজ্যিক রাজধানী ও বন্দরনগরী চট্টগ্রাম পর্যন্ত সরাসরি চলাচলকারী বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ, প্রথম নন-স্টপ (বিরতিহীন) ও দ্রুতগতির আন্তঃনগর ট্রেন হলো সুবর্ণ এক্সপ্রেস। ১৯৯৮ সালে চালু হওয়ার পর থেকেই দেশের ব্যবসায়ী, কর্মকর্তা ও সাধারণ ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এই ট্রেনটি আস্থার শীর্ষ প্রতীক হয়ে উঠেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে কোনো মধ্যবর্তী স্টপেজ ছাড়া মাত্র ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিটে যাতায়াত করার জন্য এটি যাত্রীদের প্রথম ও প্রধান পছন্দ। আপনি যদি রাজধানী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম কিংবা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় দ্রুততম ও আরামদায়ক রেল ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে যাত্রার পূর্বেই ২০২৬ সালের সর্বশেষ অফিসিয়াল সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬, সাপ্তাহিক ছুটির দিন, ট্রেনের সময়সূচী ও অনলাইন টিকিট বুকিং পদ্ধতি বিস্তারিত জেনে নেওয়া অত্যন্ত দরকার।

⚡ এক নজরে সুবর্ণ এক্সপ্রেস (২০২৬ হালনাগাদ সারসংক্ষেপ)

  • ট্রেন নম্বর: ৭০১ (চট্টগ্রাম টু ঢাকা) এবং ৭০২ (ঢাকা টু চট্টগ্রাম)
  • ঢাকা থেকে ছাড়ার সময়: বিকাল ০৪:৩০ মি. (চট্টগ্রাম পৌঁছায় রাত ০৯:৫০ মি.)
  • চট্টগ্রাম থেকে ছাড়ার সময়: সকাল ০৭:০০ টা (ঢাকা পৌঁছায় দুপুর ১২:৫৫ মি.)
  • সাপ্তাহিক ছুটির দিন: সোমবার (উভয় দিকেই ৭০১ ও ৭০২ সোমবার বন্ধ থাকে)
  • ট্রেনের ধরন: সম্পূর্ণ বিরতিহীন এক্সপ্রেস (মাঝপথে কোনো বাণিজ্যিক স্টপেজ নেই)
  • টিকিটের বর্তমান ভাড়া: শোভন চেয়ার ৪৫০৳, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) ৮৬৩৳ (অনলাইন চার্জ প্রযোজ্য)
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ছবি
ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাবল ট্র্যাকে ছুটে চলা বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রিমিয়ার নন-স্টপ সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন

সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ (আপ ও ডাউন)

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের অফিসিয়াল সময় সারণী অনুসারে ঢাকা (কমলাপুর) এবং চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন উভয় প্রান্ত থেকে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ সম্পর্কিত প্রারম্ভিক ও গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় নিচে টেবিলে তুলে ধরা হলো:

ট্রেনের নাম ট্রেন নম্বর ছাড়ার স্টেশন ও সময় গন্তব্য ও পৌঁছানোর সময় সাপ্তাহিক ছুটির দিন
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ৭০১ চট্টগ্রাম – সকাল ০৭:০০ টা ঢাকা (কমলাপুর) – দুপুর ১২:৫৫ মি. সোমবার
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ৭০২ ঢাকা (কমলাপুর) – বিকাল ০৪:৩০ মি. চট্টগ্রাম – রাত ০৯:৫০ মি. সোমবার

যাত্রাপথের স্টপেজ ও স্টেশনভিত্তিক সময়সূচী তালিকা

সুবর্ণ এক্সপ্রেস একটি বিশেষ বিরতিহীন ট্রেন হওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে কোনো মধ্যবর্তী স্টেশনে সাধারণ যাত্রী ওঠানামার অনুমতি নেই। তবে ট্রেনটি ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে নির্ধারিত টেকনিক্যাল ও যাত্রী বিরতি প্রদান করে। সময়সূচী নিচে তুলে ধরা হলো:

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা (৭০১) সময়সূচী ও স্টপেজ

স্টেশনের নাম পৌঁছানোর সময় ছাড়ার সময় যাত্রাবিরতি
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন প্রারম্ভিক সকাল ০৭:০০ টা –
ঢাকা বিমানবন্দর দুপুর ১২:১৫ মি. দুপুর ১২:২০ মি. ৫ মিনিট
ঢাকা (কমলাপুর) দুপুর ১২:৫৫ মি. শেষ গন্তব্য –

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম (৭০২) সময়সূচী ও স্টপেজ

স্টেশনের নাম পৌঁছানোর সময় ছাড়ার সময় যাত্রাবিরতি
ঢাকা (কমলাপুর) প্রারম্ভিক বিকাল ০৪:৩০ মি. –
ঢাকা বিমানবন্দর বিকাল ০৪:৫৩ মি. বিকাল ০৪:৫৮ মি. ৫ মিনিট
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন রাত ০৯:৫০ মি. শেষ গন্তব্য –

সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সুবর্ণ এক্সপ্রেসের নন-স্টপ টিকিটের মূল ভাড়া ও অনলাইন চার্জসহ মোট মূল্য নিচে তুলে ধরা হলো:

রুট আসন শ্রেণি মূল ভাড়া অনলাইন চার্জ ও ভ্যাট মোট টিকিটের মূল্য
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম শোভন চেয়ার (S_CHAIR) ৪৫০ টাকা ২৫ টাকা ৪৭৫ টাকা
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম স্নিগ্ধা (AC Chair) ৮৬৩ টাকা ১৪৯ টাকা ১,০১২ টাকা
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা বিমানবন্দর শোভন চেয়ার (S_CHAIR) ৪৫০ টাকা ২৫ টাকা ৪৭৫ টাকা
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা বিমানবন্দর স্নিগ্ধা (AC Chair) ৮৬৩ টাকা ১৪৯ টাকা ১,০১২ টাকা

আসনভিত্তিক ভাড়ার তুলনামূলক বিশ্লেষণ

ঢাকা টু চট্টগ্রাম রুটে সুবর্ণ এক্সপ্রেসে বিদ্যমান আসন শ্রেণিগুলোর ভাড়ার অনুপাত নিচে রেসপন্সিভ প্রগ্রেস বারে তুলে ধরা হলো:

শোভন চেয়ার (S_CHAIR) ৪৭৫ টাকা
সাশ্রয়ী বাজেটের নন-এসি আরামদায়ক চেয়ার আসন
স্নিগ্ধা (AC Chair) ১,০১২ টাকা
সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক বিলাসবহুল চেয়ার কোচ সুবিধা

বগি ও আসন বিন্যাস (Coach Layout)

সুবর্ণ এক্সপ্রেস একটি সম্পূর্ণ সিটিং ট্রেন, এতে কোনো স্লিপার বার্থ বা এসি কেবিনের ব্যবস্থা নেই। ট্রেনটিতে আধুনিক মিটারগেজ লাল-সবুজ এয়ারব্রেক কোচ ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি বগিতে প্রশস্ত ও আরামদায়ক পুশ-ব্যাক চেয়ার, ব্যক্তিগত রিডিং লাইট, ফোল্ডিং ট্রের সুবিধাসহ চার্জিং পয়েন্ট বিদ্যমান। ট্রেনের সংযুক্ত ক্যাটারিং কোচে চা, কফি, নাশতা, কাটলেট ও মিনারেল ওয়াটারের সুবিধা সার্বক্ষণিক নিশ্চিত করা থাকে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দ্রুতগতির কারণে ট্রেনটি কর্পোরেট যাত্রীদের মাঝে বিশেষভাবে সমাদৃত।

অনলাইনে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিং সেবা eticket.railway.gov.bd অথবা ‘রেলসেবা’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রার ১০ দিন পূর্ব থেকেই টিকিট বুক করা যায়। পূর্বাঞ্চলীয় রুটের ট্রেন হিসেবে প্রতিদিন সকাল ০৮:০০ টায় সুবর্ণ এক্সপ্রেসের অনলাইন টিকিট বিক্রি শুরু হয়। আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টে লগইন করে তারিখ, উৎস ও গন্তব্য স্টেশন নির্বাচন করে সহজে পছন্দের সিট নির্বাচন করুন। বিকাশ, নগদ, রকেট বা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করলেই কনফার্মেশন মেসেজ ও ই-টিকিট ডাউনলোড কপি পাওয়া যাবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন ভ্রমণ ও টিকিট তথ্যে যুক্ত থাকুন

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সকল ট্রেনের সর্বশেষ সময়সূচী, সিট বুকিং ও জরুরি ভ্রমণ আপডেট জানতে যুক্ত হোন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে।

হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যোগ দিন

জরুরি ভ্রমণ টিপস ও ১৬৩১৮ এসএমএস ট্র্যাকিং পদ্ধতি

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

সুবর্ণ এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে কখন ছাড়ে?

৭০২ সুবর্ণ এক্সপ্রেস প্রতিদিন বিকাল ০৪:৩০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কবে?

সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হলো সোমবার (উভয় দিকেই ৭০১ ও ৭০২ নম্বর ট্রেন সোমবার বন্ধ থাকে)।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সুবর্ণ এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ারের ভাড়া কত?

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সুবর্ণ এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ারের মূল ভাড়া ৪৫০ টাকা এবং অনলাইন চার্জসহ মোট টিকিটের মূল্য ৪৭৫ টাকা।

সুবর্ণ এক্সপ্রেসের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে কতক্ষণ সময় লাগে?

সুবর্ণ এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে মাত্র ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় লাগে। বিকাল ০৪:৩০ টায় ছেড়ে রাত ০৯:৫০ টায় চট্টগ্রাম পৌঁছায়।

সুবর্ণ এক্সপ্রেস কি বিরতিহীন ট্রেন?

হ্যাঁ, সুবর্ণ এক্সপ্রেস সম্পূর্ণ নন-স্টপ ট্রেন। ঢাকা বিমানবন্দর ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে এর কোনো বাণিজ্যিক যাত্রাবিরতি নেই।

সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইভ লোকেশন কীভাবে জানা যায়?

মোবাইলের মেসেজ অপশনে TR 701 অথবা TR 702 লিখে ১৬৩১৮ নাম্বারে এসএমএস পাঠালে ফিরতি বার্তায় ট্রেনের বর্তমান লোকেশন জানিয়ে দেওয়া হয়।

Similar Posts