ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী ভাড়া ও টিকিট 2026

2026 সালের ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী জানতে চাচ্ছেন? বাংলাদেশ রেলওয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে নিয়মিত চারটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী কর্মস্থল, শিক্ষা, ব্যবসা কিংবা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এই রুটে যাতায়াত করেন। তাই যাত্রার আগে সঠিক সময়সূচী, ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন এবং কোন ট্রেন কখন ছাড়ে এসব তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে এই রুটে পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯), জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (৭১৭), কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৩) এবং উপবন এক্সপ্রেস (৭৩৯) নিয়মিত চলাচল করে। প্রতিটি ট্রেনের যাত্রার সময়, স্টপেজ এবং আসন সুবিধায় কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তাই আপনার ভ্রমণের সময়, বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত ট্রেন নির্বাচন করলে যাত্রা আরও আরামদায়ক হবে।

এই আর্টিকেলে ২০২৬ সালের আপডেট তথ্য অনুযায়ী ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী, ট্রেনের নাম, ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময়, সাপ্তাহিক বন্ধ, টিকিটের ভাড়া, স্টপেজ, অনলাইন টিকিট বুকিং ও ট্রেন ট্র্যাকিংসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে।

ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬

২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ঢাকা থেকে সিলেট রুটে চারটি আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। নিচের সময়সূচী দেখে সহজেই আপনার সুবিধাজনক ট্রেন নির্বাচন করতে পারবেন। নিচে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছেঃ

ট্রেনের নামসময় (ঢাকা থেকে)সিলেট পৌঁছানোর সময়সাপ্তাহিক ছুটি
পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯)সকাল ০৬:২০ মিনিটদুপুর ০১:০০ মিনিটমঙ্গলবার
জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (৭১৭)সকাল ১১:১৫ মিনিটসন্ধ্যা ০৭:০০ মিনিটমঙ্গলবার
কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৩)দুপুর ০২:৫৫ মিনিটরাত ০৯:৩০ মিনিটশুক্রবার
উপবন এক্সপ্রেস (৭৩৯)রাত ১০:০০ মিনিটভোর ০৫:০০ মিনিট (পরদিন)বুধবার

তবে বিশেষ পরিস্থিতি, রেলওয়ের শিডিউল বিপর্যয় কিংবা সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে সময়সূচীতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই যাত্রার আগে সর্বশেষ ট্রেন চলাচলের অবস্থা ও টিকিটের প্রাপ্যতা যাচাই করে নেওয়া উচিত।

বর্তমানে ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী চারটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন এই রুটে যাত্রী পরিবহন করে। প্রতিটি ট্রেনের যাত্রার সময়, গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় ও সুবিধা আলাদা হওয়ায় নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রেন নির্বাচন করা সহজ হয়।

১। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (৭১৭)

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস সকাল ১১:১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে একই দিন সন্ধ্যা ০৭:০০ মিনিটে সিলেট পৌঁছায়। পুরো যাত্রায় সময় লাগে প্রায় ৭ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধের দিন মঙ্গলবার। দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে চাইলে এটি অনেক যাত্রীর প্রথম পছন্দ।

২। কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৩)

দুপুরে যাত্রা করতে চাইলে কালনী এক্সপ্রেস একটি চমৎকার বিকল্প। ট্রেনটি দুপুর ০২:৫৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে রাত ০৯:৩০ মিনিটে সিলেট পৌঁছে। মোট যাত্রা সময় প্রায় ৬ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট ও সাপ্তাহিক বন্ধ শুক্রবার। তুলনামূলক কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর কারণে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

৩। উপবন এক্সপ্রেস (৭৩৯)

রাতের ট্রেনে ভ্রমণ করতে চাইলে উপবন এক্সপ্রেস অন্যতম সেরা বিকল্প। ট্রেনটি রাত ১০:০০ মিনিটে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং পরদিন ভোর ০৫:০০ মিনিটে সিলেট পৌঁছায়। পুরো যাত্রায় সময় লাগে প্রায় ৭ ঘণ্টা। যেহেতু এটি রাতের ট্রেন, তাই দীর্ঘ ভ্রমণে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ থাকে। ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধের দিন বুধবার

৪। পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯)

ভোরে যাত্রা শুরু করে দুপুরের মধ্যেই সিলেট পৌঁছাতে চাইলে পারাবত এক্সপ্রেস একটি জনপ্রিয় পছন্দ। ট্রেনটি সকাল ০৬:২০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে দুপুর ০১:০০ মিনিটে সিলেট পৌঁছে। এর সাপ্তাহিক বন্ধের দিন মঙ্গলবার। সকালবেলার এই ট্রেনটি পর্যটক, চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।

সব মিলিয়ে ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী পারাবত, জয়ন্তিকা, কালনী এবং উপবন এক্সপ্রেস এই চারটি আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। আপনার যাত্রার সময়, গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রয়োজন ও ব্যক্তিগত সুবিধা বিবেচনা করে যেকোনো একটি ট্রেন নির্বাচন করতে পারেন।

ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের টিকিটের ভাড়া ২০২৬

ঢাকা থেকে সিলেট রুটে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভিন্ন ধরনের আসন সুবিধা প্রদান করে থাকে। ভ্রমণের বাজেট, আরাম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যাত্রীরা বিভিন্ন শ্রেণির টিকিট নির্বাচন করতে পারেন। নিচে ভাড়া উপস্থাপন করা হয়েছেঃ

আসন শ্রেণীসংক্ষিপ্ত নামভাড়া
শোভন চেয়ারS-CHAIR৪১০ টাকা
স্নিগ্ধা এসি সিটSNIGDHA৭৮৮ টাকা
এসি সিটAC-S৯৪৩ টাকা
এসি কেবিন (বার্থ)AC-B১৪৬৫ টাকা
ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬

উপরের ভাড়ার তালিকা শুধুমাত্র আন্তঃনগর ট্রেনের জন্য প্রযোজ্য। তবে প্রতিটি ট্রেনে সব ধরনের আসন পাওয়া যায় না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, উপবন এক্সপ্রেসে এসি কেবিন (AC-B) সুবিধা থাকলেও কালনী এক্সপ্রেসে এই শ্রেণির আসন নেই। তাই টিকিট বুকিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট ট্রেনে কোন কোন আসন উপলব্ধ রয়েছে তা দেখে নেওয়া উচিত।

পারাবত এক্সপ্রেসে সাধারণ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত উভয় ধরনের আসনের সুবিধা রয়েছে। সকালবেলার যাত্রার জন্য এটি নিয়মিত যাত্রীদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় ট্রেন।

কোন আসনটি আপনার জন্য উপযুক্ত?

আপনার ভ্রমণের ধরন, বাজেট এবং আরামের প্রয়োজন অনুযায়ী আসন নির্বাচন করলে যাত্রা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।

  • শোভন চেয়ার (S-CHAIR): কম খরচে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
  • স্নিগ্ধা (SNIGDHA): আরামদায়ক এসি আসনে মাঝারি বাজেটে ভ্রমণ করতে চাইলে ভালো বিকল্প।
  • এসি সিট (AC-S): দীর্ঘ যাত্রায় আরও বেশি আরাম ও উন্নত সুবিধা প্রদান করে।
  • এসি কেবিন (AC-B): রাতের যাত্রায় সর্বোচ্চ আরাম ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত।

ঈদ, পূজা, সরকারি ছুটি কিংবা পর্যটন মৌসুমে ঢাকা টু সিলেট রুটে টিকিটের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই যাত্রার তারিখ নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অগ্রিম টিকিট বুকিং করে রাখলে শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়ানো যায়।

জেনে নিনঃ ইদের দিন ও পরের দিন ট্রেন কি বন্ধ থাকে ?

সব মিলিয়ে ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী এই রুটে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট এবং কিছু ট্রেনে এসি কেবিন সুবিধা পাওয়া যায়। নিজের বাজেট ও ভ্রমণের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক আসন নির্বাচন করলে পুরো যাত্রাই আরও আরামদায়ক হয়ে উঠবে।

ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের প্রধান স্টপেজ

ঢাকা থেকে সিলেটগামী সব আন্তঃনগর ট্রেন একই রেলপথ ব্যবহার করলেও প্রতিটি ট্রেন সব স্টেশনে থামে না। তাই আপনি যদি মাঝপথের কোনো স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠতে বা নামতে চান তাহলে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট ট্রেনের স্টপেজ তালিকা দেখে নেওয়া উচিত।

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (৭১৭) স্টপেজ

ঢাকা কমলাপুর থেকে যাত্রা শুরু করে পর্যায়ক্রমে বিমানবন্দর, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আজমপুর, মুকুন্দপুর, হরশপুর, মনতলা, নয়াপাড়া, শাহজীবাজার, শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ, কুলাউড়া, মাইজগাঁও যাত্রা বিরতি করে সর্বশেষ সিলেট স্টেশনে পৌঁছায়। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস সকাল ১১:১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং সন্ধ্যা ০৭:০০ মিনিটে সিলেট পৌঁছায়। যাত্রার মোট সময় প্রায় ৭ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট

কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৩) স্টপেজ

একইভাবে আন্তঃনগর কালনি এক্সরেস ট্রেনটি ঢাকা কমলাপুর স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে পর্যায়ক্রমে বিমানবন্দর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আজমপুর, হরশপুর, শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, শমশেরনগর, কুলাউড়া, মাইজগাঁও যাত্রা বিরতি করে সর্বশেষে সিলেট স্টেশনে পৌঁছায়। কালনী এক্সপ্রেস তুলনামূলক কম সংখ্যক স্টেশনে থামে। ফলে এটি মাত্র ৬ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটে সিলেট পৌঁছে যায় ও এই রুটের দ্রুততম আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে পরিচিত।

উপবন এক্সপ্রেস (৭৩৯) স্টপেজ

ঢাকা, বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ, শমশেরনগর, কুলাউড়া, বড়মচাল, মাইজগাঁও এবং সিলেট।

উপবন এক্সপ্রেস রাত ১০:০০ মিনিটে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে ও পরদিন ভোর ০৫:০০ মিনিটে সিলেট পৌঁছে। রাতের ভ্রমণের জন্য এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি আন্তঃনগর ট্রেন। যারা সকালে সিলেট পৌঁছে সরাসরি কাজ বা ভ্রমণ শুরু করতে চান তাদের জন্য এটি একটি সুবিধাজনক হবে।

পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯) স্টপেজ

পারাবত এক্সপ্রেস এই রুটের অন্যতম জনপ্রিয় সকালের ট্রেন। যাত্রাপথে এটি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্টেশনে বিরতি দিয়ে দুপুরে সিলেট পৌঁছে। নির্দিষ্ট যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট দিনের স্টপেজ তালিকা যাচাই করে নেওয়া ভালো কারণ বিশেষ পরিস্থিতিতে অপারেশনাল পরিবর্তন হতে পারে।

আপনি যদি ঢাকা থেকে মাঝপথের কোনো স্টেশন যেমন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া কিংবা অন্যান্য স্টেশন থেকে যাতায়াত করতে চান ? তাহলে অবশ্যই আপনার নির্বাচিত ট্রেনটি সেই স্টেশনে থামে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে টিকিট বুকিং করবেন।

অনলাইনে ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন বুকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে খুব সহজেই ঘরে বসে ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী পছন্দের ট্রেনের টিকিট কাটা যায়। অনলাইনে টিকিট বুকিং করলে স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয় না এবং আসনের প্রাপ্যতা দ্রুত জানা যায়।

  1. বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট অথবা মোবাইল অ্যাপে প্রবেশ করুন।
  2. নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করুন অথবা নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
  3. যাত্রার স্থান হিসেবে ঢাকা ও গন্তব্য হিসেবে সিলেট নির্বাচন করুন।
  4. ভ্রমণের তারিখ নির্বাচন করুন।
  5. পারাবত, জয়ন্তিকা, কালনী অথবা উপবন এক্সপ্রেসের মধ্যে আপনার পছন্দের ট্রেন নির্বাচন করুন।
  6. পছন্দের আসন শ্রেণি নির্বাচন করুন।
  7. যাত্রীর নাম, মোবাইল নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।
  8. অনলাইন পেমেন্ট সম্পন্ন করুন এবং ই-টিকিট সংগ্রহ করুন।

অনলাইনে টিকিট কাটার সময় আসনের প্রাপ্যতা মুহূর্তের মধ্যেই পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে ঈদ, পূজা, সরকারি ছুটি ও পর্যটন মৌসুমে ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী চলাচলকারী ট্রেনগুলোর টিকিট খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্রিম টিকিট বুকিং করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

ট্রেন ট্র্যাকিং করার নিয়ম

যাত্রার আগে ট্রেনের বর্তমান অবস্থান জানা থাকলে স্টেশনে অযথা অপেক্ষা করতে হয় না। বাংলাদেশ রেলওয়ের এসএমএসভিত্তিক ট্র্যাকিং সুবিধার মাধ্যমে খুব সহজেই ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থান জানা যায়।মোবাইলের মেসেজ অপশনে নিচের ফরম্যাটে লিখুন:

TR <Space> 717 and Send to 16318

এরপর ১৬৩১৮ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে দিন। ফিরতি বার্তায় সংশ্লিষ্ট ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থান, চলাচলের অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন। ট্রেন নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে চললে এই ট্র্যাকিং সুবিধা ব্যবহার করে স্টেশনে পৌঁছানোর উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা সহজ হয়। দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণে এটি বিশেষভাবে কার্যকর।

ভ্রমণের আগে যেসব বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন

ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী জেনে নেওয়ার পাশাপাশি ভ্রমণের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখলে পুরো যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক ও ঝামেলামুক্ত হবে। বিশেষ করে ছুটির দিন, পর্যটন মৌসুম কিংবা উৎসবের সময় যাত্রীসংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। তাই আগে থেকেই পরিকল্পনা করে যাত্রা করলে অপ্রত্যাশিত সমস্যায় পড়তে হয় না। টিপসঃ

  • যাত্রার তারিখ নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টিকিট বুকিং করার চেষ্টা করুন।
  • স্টেশনে ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে উপস্থিত থাকুন।
  • অনলাইনে টিকিট কাটলে ই-টিকিট মোবাইলে সংরক্ষণ করুন অথবা প্রিন্ট কপি সঙ্গে রাখুন।
  • ভ্রমণের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন অথবা প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
  • ট্রেনে ওঠার আগে কোচ ও আসন নম্বর ভালোভাবে মিলিয়ে নিন।
  • মূল্যবান জিনিসপত্র নিজের কাছেই রাখুন এবং অপরিচিত কারও কাছে ব্যাগ বা লাগেজ তুলে দেবেন না।
  • যাত্রার আগে ট্রেন ট্র্যাকিং সুবিধা ব্যবহার করলে ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থান জানা সহজ হয়।
  • সময়সূচীতে পরিবর্তন হয়েছে কিনা তা যাত্রার দিন একবার যাচাই করে নেওয়া ভালো।

ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী নিয়ে সংক্ষিপ্ত তুলনা

চারটি আন্তঃনগর ট্রেনের মধ্যে কোনটি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী হবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার ভ্রমণের সময় ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের উপর। যেমনঃ

  • সকালে যাত্রা করতে চাইলে: পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯)
  • দিনের বেলায় আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য: জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (৭১৭)
  • সবচেয়ে কম সময়ে পৌঁছাতে চাইলে: কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৩)
  • রাতের ভ্রমণ এবং এসি কেবিন সুবিধার জন্য: উপবন এক্সপ্রেস (৭৩৯)

আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য যদি ব্যবসায়িক বা অফিসিয়াল হয় তাহলে সময় বিবেচনা করে ট্রেন নির্বাচন করা সুবিধাজনক। অন্যদিকে পরিবার নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আসনের ধরন, আরাম এবং যাত্রার সময়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী কয়টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে?

বর্তমানে ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী ঢাকা থেকে সিলেট রুটে চারটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এগুলো হলো পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯), জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (৭১৭), কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৩) এবং উপবন এক্সপ্রেস (৭৩৯)।

ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার সবচেয়ে দ্রুত ট্রেন কোনটি?

কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৩) এই রুটের দ্রুততম আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর একটি। এটি দুপুর ০২:৫৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে রাত ০৯:৩০ মিনিটে সিলেট পৌঁছায়। মোট যাত্রা সময় প্রায় ৬ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট।

ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের সর্বনিম্ন টিকিট ভাড়া কত?

২০২৬ সালের নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী শোভন চেয়ার (S-CHAIR) শ্রেণির সর্বনিম্ন টিকিট ভাড়া ৳৪১০। এছাড়া স্নিগ্ধা, এসি সিট এবং এসি কেবিনের জন্য আলাদা ভাড়া প্রযোজ্য।

অনলাইনে ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের টিকিট কীভাবে কাটা যায়?

বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপে লগইন করে যাত্রার স্থান, গন্তব্য, তারিখ, ট্রেন এবং আসন নির্বাচন করার পর অনলাইন পেমেন্ট সম্পন্ন করলেই ই-টিকিট সংগ্রহ করা যায়।

ট্রেনের বর্তমান অবস্থান কীভাবে জানা যাবে?

মোবাইলের মেসেজ অপশনে TR লিখে একটি স্পেস দিয়ে ট্রেন নম্বর (যেমন: TR 717) লিখে ১৬৩১৮ নম্বরে এসএমএস পাঠালে ফিরতি বার্তায় ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থান এবং চলাচলের তথ্য জানা যায়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *