পোড়াদহ টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
পোড়াদহ টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া সম্পর্কে আপনার কি জানা আছে? পোড়াদহ টু খুলনা যাওয়ার জন্য মোট পাঁচটি ট্রেন চলাচল করে সিমান্ত এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও রূপসা এক্সপ্রেস। এই ট্রেনগুলোর ভাড়া শুরু হয় শোভন চেয়ারের জন্য ৳২০৫ থেকে, আর এসি বার্থের ভাড়া পৌঁছায় ৳৭৪৬ পর্যন্ত। যাত্রার সময়কাল প্রায় ৩ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা ৫১ মিনিটের মধ্যে থাকে।
পোড়াদহ টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া নিয়ে বিস্তারিত জানার আগ্রহ প্রায় সবারই থাকে। কারণ কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা কিংবা মেহেরপুর অঞ্চল থেকে খুলনাগামী যাত্রীদের অনেকেই পোড়াদহ স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠেন। নিচে প্রতিটি ট্রেনের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:
পোড়াদহ টু খুলনা ট্রেনগুলোর সময়সূচী
পোড়াদহ থেকে খুলনা যাওয়ার ট্রেন খুঁজছেন এমন যাত্রীদের জন্য নিচের পোড়াদহ টু খুলনা সবগুলো ট্রেনের ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময় একসাথে দেওয়া হলো:
| ট্রেনের নাম | পোড়াদহ ছাড়ার সময় | খুলনা পৌঁছানোর সময় |
|---|---|---|
| সিমান্তা এক্সপ্রেস (৭৪৮) | রাত ১২:২৪ মিনিট | ভোর ৪:১০ মিনিট |
| চিত্রা এক্সপ্রেস (৭৬৪) | রাত ১২:৪৯ মিনিট | ভোর ৪:৪০ মিনিট |
| সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস (৭৬২) | সকাল ৮:২২ মিনিট | দুপুর ১২:১০ মিনিট |
| সুন্দরবন এক্সপ্রেস (৭২৬) | বেলা ১১:৫৩ মিনিট | বিকেল ৩:৪০ মিনিট |
| রূপসা এক্সপ্রেস (৭২৮) | দুপুর ২:৪৭ মিনিট | সন্ধ্যা ৬:২৫ মিনিট |
লক্ষ্য করলে দেখবেন, দিনের বিভিন্ন সময়ে ট্রেনগুলো ছাড়ে গভীর রাত, সকাল, দুপুর ও বিকাল। ফলে যাত্রীর সুবিধামতো সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আরও জেনে নিনঃ ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী
প্রতিটি ট্রেনের আসন শ্রেণি ও ভাড়ার বিস্তারিত
খুলনা ট্রেনের ভাড়া ২০২৬ অনুযায়ী প্রতিটি ট্রেনে একাধিক আসন শ্রেণি রয়েছে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) ও এসি বার্থ/সিট। যাত্রীর বাজেট ও আরামের চাহিদা অনুযায়ী শ্রেণি বেছে নেওয়া যায়।
সিমান্তা এক্সপ্রেসের সময়সূচী ও ভাড়া
- শোভন চেয়ার (S_CHAIR): ৳২০৫
- স্নিগ্ধা (SNIGDHA): ৳৩৮৬
- এসি বার্থ (AC_B): ৳৭৪৬
এই ট্রেনটি মূলত চিলাহাটি থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে এবং পোড়াদহ হয়ে পরদিন ভোরে খুলনায় পৌঁছায়।
চিত্রা এক্সপ্রেসের সময়সূচী ও ভাড়া
- শোভন চেয়ার: ৳২০৫
- স্নিগ্ধা: ৳৩৮৬
- এসি বার্থ: ৳৭৪৬
চিত্রা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ৭:৩০ মিনিটে ছেড়ে পোড়াদহ হয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের সময়সূচী ও ভাড়া
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসে কেবল শোভন চেয়ার শ্রেণি রয়েছে, ভাড়া ৳২০৫। যারা কম খরচে দিনের বেলায় যাত্রা করতে চান তাদের জন্য এটি একটি সাশ্রয়ী মাধ্যম বলা যায়।
সুন্দরবন এক্সপ্রেসের সময়সূচী ও ভাড়া
- শোভন চেয়ার: ৳২০৫
- স্নিগ্ধা: ৳৩৮৬
- এসি সিট (AC_S): ৳৪৬৬
বেলা প্রায় পৌনে ১২টায় পোড়াদহ থেকে ছেড়ে এই ট্রেনটি বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে খুলনায় পৌঁছায়। যারা সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে দুপুরের মধ্যে স্টেশনে পৌঁছাতে পারবেন তাদের জন্য এটি সুবিধাজনক।
রূপসা এক্সপ্রেসের সময়সূচী ও ভাড়া
- শোভন চেয়ার: ৳২০৫
- স্নিগ্ধা: ৳৩৮৬
- এসি সিট: ৳৪৬৬
রূপসা এক্সপ্রেস চিলাহাটি থেকে সকাল ৮:৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে এবং পোড়াদহ থেকে দুপুর ২:৪৭ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬:২৫ মিনিটে খুলনায় পৌঁছায়। বিকেলের দিকে যাত্রা করতে চাইলে এই ট্রেনটি সেরা বলা যায়।
রাতের ট্রেন নাকি সকালের ট্রেনই ভালো?
যারা কাজের দিন নষ্ট করতে চান না, তাদের জন্য সিমান্তা এক্সপ্রেস বা চিত্রা এক্সপ্রেসের মতো রাতের ট্রেন বেশ কার্যকর। রাতে ঘুমিয়ে যাত্রা শেষ করে ভোরে খুলনায় পৌঁছালে পুরো দিনটাই কাজে লাগানো যায়—আলাদা করে ছুটি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
অন্যদিকে, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের মতো সকালের ট্রেনে যাত্রা করলে খুলনায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর হয়ে যায়। ফলে সেদিন বিকেলটা কাজ বা ঘোরাঘুরির জন্য হাতে থাকে। যারা রাতে ভালো ঘুমাতে পারেন না বা প্রথমবার রাতের ট্রেনে ভ্রমণ করছেন, তাদের জন্য সকালের ট্রেন বেশি আরামদায়ক মনে হতে পারে।
সংক্ষেপে বলা যায়:
- জরুরি কাজে যেতে হলে ও দিন বাঁচাতে চাইলে: রাতের ট্রেন (সিমান্তা বা চিত্রা এক্সপ্রেস)
- আরামে ভ্রমণ ও দিনের আলোয় যাত্রা উপভোগ করতে চাইলে: দিনের ট্রেন (সাগরদাঁড়ি, সুন্দরবন বা রূপসা এক্সপ্রেস)
পোড়াদহ রেলওয়ে স্টেশন সম্পর্কে জানা দরকার যা কিছু
পোড়াদহ স্টেশনটি কুষ্টিয়া জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন, যেখান দিয়ে ঢাকা, রাজশাহী ও চিলাহাটি থেকে আসা ট্রেনগুলো খুলনার দিকে যাওয়ার পথে থামে। আশেপাশের অঞ্চল যেমন আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা বা মেহেরপুরের যাত্রীদের জন্য এই স্টেশনটি সবচেয়ে কাছের সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে।
স্টেশনে পৌঁছানোর সময় হাতে কিছুটা বাড়তি সময় রাখা ভালো, কারণ ট্রেনগুলো পোড়াদহে সাধারণত মাত্র ২-৩ মিনিট যাত্রাবিরতি করে। দেরি করে ফেললে ট্রেন মিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে বিশেষ করে রাতের ট্রেনগুলোর ক্ষেত্রে।
পোড়াদহ টু খুলনা যাওয়ার টিকেট কাটার টিপস
বাংলাদেশ রেলওয়ে টিকেট এখন অনলাইন ও কাউন্টার দুই মাধ্যমেই পাওয়া যায়। ভ্রমণের অন্তত কয়েকদিন আগে টিকেট কাটার চেষ্টা করা উচিত। বিশেষ করে ঈদ বা পূজার মতো উৎসবের সময়।
অনলাইন টিকেটের সুবিধা
- ঘরে বসেই টিকেট কাটা যায় তাই স্টেশনে লাইনে দাঁড়াতে হয় না
- আসন নির্বাচনের সুযোগ থাকে
- মোবাইলেই টিকেট সংরক্ষণ করা যায়
কাউন্টার থেকে টিকেট কাটার সুবিধা
- শেষ মুহূর্তে সার্ভার সমস্যা হলে বিকল্প উপায় হিসেবে কাজ করে
- নগদ টাকায় সরাসরি লেনদেন করা যায়
- যারা অনলাইন সিস্টেমে অভ্যস্ত নন তাদের জন্য সহজ
দুটো পদ্ধতিরই নিজস্ব সুবিধা রয়েছে তবে যাত্রার তারিখ নিশ্চিত থাকলে অনলাইনে আগে থেকে টিকেট কেটে রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা। কারণ এতে আসন নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
খুলনা পৌঁছানোর পর কী করবেন?
খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার জন্য রিকশা, অটোরিকশা ও সিএনজি সহজেই পাওয়া যায়। যারা সকাল বা দুপুরের ট্রেনে পৌঁছান তাদের হাতে দিনের বাকি সময়টা শহর ঘুরে দেখা বা প্রয়োজনীয় কাজ সারার জন্য থেকে যায়। রাতের ট্রেনে ভোরবেলা খুলনায় পৌঁছালে সরাসরি হোটেল বা আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নেওয়াই ভালো। তারপর সতেজ হয়ে দিনের কাজ শুরু করা যায়।
পোড়াদহ টু খুলনা যাত্রার সেরা সময় কোনটি?
ভ্রমণের সেরা সময় নির্ভর করে যাত্রীর উদ্দেশ্যের ওপর। ব্যবসায়িক কাজে বা জরুরি প্রয়োজনে গেলে রাতের ট্রেনগুলো সময় সাশ্রয়ী। পরিবার নিয়ে বা আরামে ভ্রমণ করতে চাইলে সকাল বা দুপুরের ট্রেন বেছে নেওয়া ভালো। কারণ তখন আশেপাশের গ্রামীণ দৃশ্য উপভোগ করা যায়। শীতকালে রাতের ট্রেনে কুয়াশার কারণে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা বেশি থাকে, তাই শীতের মৌসুমে দিনের ট্রেন বেছে নেওয়া তুলনামূলক নিরাপদ।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
পোড়াদহ টু খুলনা যাওয়ার সবচেয়ে সস্তা ট্রেন কোনটি?
সবগুলো ট্রেনেই শোভন চেয়ার শ্রেণির ভাড়া একই, ৳২০৫। তাই খরচের দিক থেকে যেকোনো ট্রেনের শোভন চেয়ার সবচেয়ে সাশ্রয়ী মাধ্যম।
সিমান্তা এক্সপ্রেসের পোড়াদহ স্টেশন ছাড়ার সময় কত?
সিমান্তা এক্সপ্রেস পোড়াদহ স্টেশন থেকে রাত ১২:২৪ মিনিটে ছাড়ে এবং ভোর ৪:১০ মিনিটে খুলনায় পৌঁছায়।
পোড়াদহ থেকে খুলনা যেতে সবচেয়ে কম সময় কোন ট্রেনে লাগে?
রূপসা এক্সপ্রেসে সবচেয়ে কম সময় লাগে, প্রায় ৩ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট।
চিত্রা এক্সপ্রেস কোথা থেকে ছেড়ে আসে?
চিত্রা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে ৭:৩০ মিনিটে ছেড়ে পোড়াদহ হয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
পোড়াদহ টু খুলনা যাওয়ার জন্য এসি সিট কোন কোন ট্রেনে পাওয়া যায়?
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও রূপসা এক্সপ্রেসে এসি সিট, আর সিমান্তা ও চিত্রা এক্সপ্রেসে এসি বার্থ পাওয়া যেতে পারে।
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসে কোন কোন শ্রেণির আসন আছে?
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসে শুধুমাত্র শোভন চেয়ার শ্রেণি রয়েছে, ভাড়া ৳২০৫।
পোড়াদহ টু খুলনা যাওয়ার ট্রেনের টিকেট কীভাবে কাটা যায়?
বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন সিস্টেম বা নিকটবর্তী রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকেট কাটা যায়।
রূপসা এক্সপ্রেস কোথা থেকে যাত্রা শুরু করে?
রূপসা এক্সপ্রেস চিলাহাটি থেকে সকাল ৮:৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে এবং পোড়াদহ হয়ে খুলনায় পৌঁছায়।
