ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা ২০২৬
২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ভৈরব বাজার থেকে ঢাকা রুটে প্রতিদিন একাধিক আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে থাকে। দিনের প্রথম ট্রেন তৃর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১) যেটি ভোর ৩:৩৩ মিনিটে ভৈরব বাজার থেকে ছেড়ে ৫:১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। অপরদিকে, সর্বশেষ ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস (৭১০) রাত ৮:৫৮ মিনিটে ছেড়ে ১০:৪০ মিনিটে ঢাকায় ( কমলাপুর) পৌঁছে।
যাত্রার সময় সাধারণত ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মধ্যে হয়ে থাকে। আসনভেদে ভাড়া, শোভন চেয়ার শুরু হয় ১০৫ টাকা থেকে এবং এসি বার্থের ভাড়া সর্বোচ্চ ৪৭৬ টাকা। এই আর্টিকেলে ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা, টিকিট বুকিং ও যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব পরামর্শ বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে
ভৈরব থেকে ঢাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ অফিস, ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা শিক্ষার উদ্দেশ্ ট্রেনে যাতায়াত করেন। সড়কপথের যানজট এড়িয়ে স্বল্প সময়ে নিরাপদ ভ্রমণের জন্য আন্তঃনগর ট্রেন এখনও সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। তবে কোন ট্রেন কখন ছাড়ে, কোন ট্রেনে কোন আসন পাওয়া যায় ও কোন সময় টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি এসব বিষয় আগে থেকে জানা থাকলে পুরো যাত্রা আরও সহজ হয়ে যায়।
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ (আন্তঃনগর)
বর্তমানে ভৈরব বাজার থেকে ঢাকা রুটে মোট ১০টি আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে। প্রতিটি ট্রেনের যাত্রার সময়, ভ্রমণের সময়কাল ও আসন সুবিধা আলাদা। নিচের তালিকায় সর্বশেষ সময়সূচী দেওয়া হলো আপডেট তথ্য অনুসারেঃ
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | যাত্রার সময় |
|---|---|---|---|
| তুর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১) | ০৩:৩৩ AM | ০৫:১০ AM | ১ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট |
| উপবন এক্সপ্রেস (৭৪০) | ০৪:০৬ AM | ০৫:৪০ AM | ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট |
| এগারোসিন্ধুর প্রভাতী (৭৩৮) | ০৮:২০ AM | ১০:৩৫ AM | ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট |
| চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১) | ১০:৫৩ AM | ১২:৪০ PM | ১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট |
| কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৪) | ১১:১৩ AM | ১২:৫৫ PM | ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট |
| এগারোসিন্ধুর গোধূলি (৭৫০) | ০৩:০০ PM | ০৪:৪৫ PM | ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট |
| মোহনাগর এক্সপ্রেস (৭২১) | ০৪:৫৭ PM | ০৬:৪০ PM | ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট |
| কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮২) | ০৫:৪৮ PM | ০৮:০০ PM | ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট |
| মহানগর গোধূলি (৭০৩) | ০৭:০৮ PM | ০৮:৪৫ PM | ১ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট |
| পারাবত এক্সপ্রেস (৭১০) | ০৮:৫৮ PM | ১০:৪০ PM | ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট |
রাতের ট্রেন নাকি দিনের ট্রেন কোনটি ভালো?
এটি মূলত আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে। যদি খুব সকালে ঢাকায় পৌঁছাতে চান তাহলে তুর্ণা বা উপবন এক্সপ্রেস ভালো হবে। আবার দিনের বেলায় আরাম করে যাত্রা করতে চাইলে কালনী এক্সপ্রেস, চট্টলা এক্সপ্রেস কিংবা মোহনাগর এক্সপ্রেস বেছে নেওয়া যেতে পারে।
প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচী
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রার সময় ও সুবিধা একে অপরের থেকে কিছুটা ভিন্ন। কেউ খুব সকালে ঢাকায় পৌঁছাতে চান, আবার কেউ অফিস শেষে সন্ধ্যায় যাত্রা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রেন নির্বাচন করলে ভ্রমণ আরও সহজ ও আরামদায়ক হয়।
তুর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১)
ভোর ৩:৩৩ মিনিটে ভৈরব থেকে ছেড়ে ৫:১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। যারা খুব সকালে রাজধানীতে পৌঁছে অফিস, চিকিৎসা বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করতে চান, তাদের জন্য এটি অন্যতম সেরা বলা যায়।
- ভাড়াঃ ভৈরব বাজার টু ঢাকা শোভন চেয়ার ১২৫ টাকা, স্নিগ্ধা ২৩৬, ফার্স্ট বার্থ ৩৩২ এবং এসি বার্থ ৪৭৬ টাকা মাত্র। প্রতি সিটের সাথে ২০ টাকা অনলাইন চার্জ প্রযোজ্য হবে।
উপবন এক্সপ্রেস (৭৪০)
ভোর ৪:০৬ মিনিটে ছেড়ে ৫:৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছে। এই ট্রেনটি সবচেয়ে কম সময়ে যাত্রা সম্পন্ন করা ট্রেনগুলোর একটি। দ্রুত ভ্রমণ করতে চাইলে এটি ভালো পছন্দ হতে পারে।
- ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী অনুসারে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া যথাক্রমে শোভন চেয়ার ১২৫, এসি সিট ৪৭৬ টাকা এবং কেভিন প্রতি সিট ৪৭৬ টাকা।
এগারোসিন্ধুর প্রভাতী (৭৩৮)
সকাল ৮:২০ মিনিটে ভৈরব থেকে যাত্রা শুরু করে ১০:৩৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। যারা ভোরে যাত্রা করতে চান না তাদের জন্য এই ট্রেনটি বেশ সুবিধাজনক।
- শোভন ১০৫ টাকা, শোভন চেয়ার ১২৫, ফার্স্ট ক্লাস সিট ১৯০ এবং কেভিন প্রতি সিট ১৯০ টাকা।
চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১)
সকাল ১০:৫৩ মিনিটে ছেড়ে ১২:৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। দিনের বেলায় আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য অনেক যাত্রী এই ট্রেনটি বেছে নেন।
- ভৈরব বাজার টু ঢাকা আন্তঃনগর চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া যথাক্রমে শোভন চেয়ার ১২৫টাকা এবং এসি স্নিগ্ধা ২৩৬ টাকা।
কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৪)
সকাল ১১:১৩ মিনিটে যাত্রা শুরু করে ১২:৫৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছে। নিয়মিত যাত্রীদের কাছে এটি একটি নির্ভরযোগ্য আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে পরিচিত।
- শোভন চেয়ার ১২৫টাকা, এসি স্নিগ্ধা ২৩৬ টাকা এবং কেভিন প্রতি সিট ২৮২ টাকা। প্রতি সিটের জন্য ২০ টাকা অনলাইন চার্জ প্রযোজ্য।
এগারোসিন্ধুর গোধূলি (৭৫০)
বিকেল ৩:০০ মিনিটে ছেড়ে ৪:৪৫ মিনিটে রাজধানীতে পৌঁছায়। দুপুরের পর যাত্রা করতে চাইলে এটি ভালো হবে ।
- শোভন ১০৫ টাকা, শোভন চেয়ার ১২৫, ফার্স্ট ক্লাস সিট ১৯০ এবং কেভিন প্রতি সিট ১৯০ টাকা।
মোহনাগর এক্সপ্রেস (৭২১)
বিকেল ৪:৫৭ মিনিটে ভৈরব ছেড়ে ৬:৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছে। অফিস বা ব্যক্তিগত কাজ শেষে বিকেলের ট্রেনে যাত্রার জন্য এটি জনপ্রিয়।
- শোভন চেয়ার ১২৫টাকা, স্নিগ্ধা ২৩৬ টাকা এবং এসি কেভিন ২৮২ টাকা মাত্র।
কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮২)
সন্ধ্যা ৫:৪৮ মিনিটে যাত্রা শুরু করে রাত ৮:০০টায় ঢাকায় পৌঁছায়। যাত্রার সময় তুলনামূলক কিছুটা বেশি হলেও অনেক যাত্রী এই ট্রেন ব্যবহার করেন।
- আন্তঃনগর কিশরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া যথাক্রমে শোভন চেয়ার শোভন চেয়ার ১২৫টাকা, স্নিগ্ধা ২৩৬ টাকা এবং এসি কেভিন ২৮২ টাকা মাত্র।
মহানগর গোধূলি (৭০৩)
সন্ধ্যা ৭:০৮ মিনিটে ভৈরব থেকে ছেড়ে ৮:৪৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছে। সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে ঢাকাগামী যাত্রীদের জন্য এটি অন্যতম জনপ্রিয় ট্রেন।
- শোভন চেয়ার ১২৫টাকা, এসি স্নিগ্ধা ২৩৬ টাকা এবং কেভিন প্রতি সিট ২৮২ টাকা
পারাবত এক্সপ্রেস (৭১০)
রাত ৮:৫৮ মিনিটে যাত্রা শুরু করে ১০:৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। এটি দিনের শেষ আন্তঃনগর ট্রেন। রাতের দিকে ভ্রমণ করতে চাইলে এটি সবচেয়ে উপযুক্ত হবে।
- শোভন চেয়ার ১২৫টাকা, এসি স্নিগ্ধা ২৩৬ টাকা, ফার্স্ট ক্লাস সিট ১৯০ টাকা এবং কেভিন প্রতি সিট ২৮২ টাকা
কোন সময় ট্রেনে চলাচল করলে সুবিধা বেশি?
সময়সূচী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ভোর ৩:৩০ থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত পাঁচটি আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে। তাই সকালে ঢাকায় অফিস, হাসপাতাল বা জরুরি কাজে পৌঁছাতে চাইলে এই সময়ের ট্রেনগুলো সবচেয়ে উপযোগী। অন্যদিকে বিকেল ও সন্ধ্যায় কর্মস্থল শেষ করে ঢাকায় ফেরার জন্যও একাধিক ট্রেন রয়েছে।
আমার অভিজ্ঞতায় ভোরের তুর্ণা এক্সপ্রেস এবং উপবন এক্সপ্রেস সাধারণত দূরপাল্লার ট্রেন হওয়ায় আগে থেকেই টিকিট বুক করা ভালো। বিশেষ করে সপ্তাহের শেষ দিকে ও সরকারি ছুটির আগে এই দুটি ট্রেনে চাহিদা অনেক বেশি থাকে।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী উপবন এক্সপ্রেস (৭৪০) ভৈরব থেকে ঢাকা পৌঁছাতে প্রায় ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট সময় নিয়ে থাকে। যা এই রুটের দ্রুততম ট্রেনগুলোর একটি। এছাড়া তুর্ণা এক্সপ্রেস ও মহানগর গোধূলিও তুলনামূলক কম সময়ে ঢাকায় পৌঁছে যায়।
কোন ট্রেনটি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত?
- ভোরে ঢাকায় পৌঁছাতে চাইলে: তুর্ণা এক্সপ্রেস বা উপবন এক্সপ্রেস।
- সকালের আরামদায়ক যাত্রার জন্য: এগারোসিন্ধুর প্রভাতী।
- দুপুরের আগে পৌঁছাতে চাইলে: চট্টলা এক্সপ্রেস বা কালনী এক্সপ্রেস।
- বিকেল ও সন্ধ্যার যাত্রার জন্য: মোহনাগর এক্সপ্রেস বা মহানগর গোধূলি।
- রাতের শেষ ট্রেন ধরতে চাইলে: পারাবত এক্সপ্রেস।
যাত্রার আগে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
যাত্রার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। সরকারি ছুটি, ঈদ বা সপ্তাহান্তে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই সম্ভব হলে কয়েক দিন আগেই অনলাইনে টিকিট বুক করে রাখুন। এতে পছন্দের আসন পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী জানার পাশাপাশি ভাড়ার তথ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী এই রুটে বিভিন্ন শ্রেণির আসনের জন্য আলাদা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আপনি সাধারণ আসনে ভ্রমণ করতে চাইলে কম খরচে যাত্রা করতে পারবেন, আবার বেশি আরাম চাইলে এসি বা এসি বার্থও বেছে নিতে পারেন। আসনভেদে ভাড়া শুরু হয় ১০৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৭৬ টাকা পর্যন্ত।
| আসনের ধরন | ভাড়া |
|---|---|
| শোভন | ১০৫ টাকা |
| শোভন চেয়ার | ১২৫ টাকা |
| প্রথম আসন | ১৯০ টাকা |
| প্রথম বার্থ | ২৫০ টাকা |
| স্নিগ্ধা | ২৪০ টাকা |
| এসি সিট | ২৮৮ টাকা |
| এসি বার্থ | ৪৭৬ টাকা |
কোন আসনটি নির্বাচন করবেন?
নিয়মিত যাতায়াতের জন্য শোভন চেয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয়। এটি তুলনামূলক আরামদায়ক ও ভাড়াও সাশ্রয়ী। দীর্ঘ পথ বা পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণ করলে স্নিগ্ধা অথবা এসি সিট বেছে নেওয়া ভালো। আর রাতের যাত্রায় সর্বোচ্চ আরাম চাইলে এসি বার্থ উপযুক্ত।
অনলাইনে টিকিট কাটার সুবিধা
বর্তমানে অনলাইনে আগাম টিকিট বুকিং করা সবচেয়ে সুবিধাজনক পদ্ধতি। এতে স্টেশনের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয় না ও নিজের পছন্দের আসন বেছে নেওয়ার সুযোগও থাকে। বিশেষ করে সরকারি ছুটি ও ঈদের সময় কয়েক দিন আগেই টিকিট কেটে রাখা উচিত।
কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ
যারা অনলাইনে টিকিট কাটতে চান না, তারা ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। তবে ব্যস্ত সময়ে নির্ধারিত ট্রেনের টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই যাত্রার দিন পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে স্টেশনে পৌঁছানো ভালো।
টিকিট বুকিংয়ের সময় যেসব বিষয় মনে রাখবেন
- যাত্রার তারিখ ও ট্রেন নম্বর ভালোভাবে যাচাই করুন।
- আসনের ধরন নির্বাচন করার আগে ভাড়া দেখে নিন।
- অনলাইন বুকিংয়ের পর টিকিটের কপি সংরক্ষণ করুন।
- স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করুন।
- ঈদ বা ছুটির সময় আগাম টিকিট সংগ্রহ করুন।
আমার অভিজ্ঞতায়, সকাল ও সন্ধ্যার জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর টিকিট সবচেয়ে দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই যাত্রা নিশ্চিত করতে শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করাই ভালো।
ভৈরব টু ঢাকা মেইল এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
আন্তঃনগর ট্রেনের পাশাপাশি ভৈরব থেকে ঢাকা রুটে কয়েকটি মেইল এক্সপ্রেস ট্রেনও চলাচল করে। যেসব যাত্রী তুলনামূলক কম খরচে ভ্রমণ করতে চান এবং যাত্রার সময় কিছুটা বেশি হলেও সমস্যা নেই তাদের জন্য এই ট্রেনগুলো একটি ভালো বিকল্প। তবে আন্তঃনগর ট্রেনের তুলনায় মেইল এক্সপ্রেস ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে বেশি সময় যাত্রাবিরতি করে।
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় |
|---|---|---|
| কর্ণফুলী এক্সপ্রেস | ০৭:৪৫ AM | ১০:৪৫ AM |
| ঢাকা মেইল | ০২:২০ AM | ০৫:২৫ AM |
| সুরমা মেইল | ০৬:২০ AM | ০৯:৫০ AM |
| তিতাস কমিউটার | ০৯:৩০ AM | ১২:১০ PM |
ভ্রমণের আগে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
ট্রেনে ভ্রমণের আগে সময়সূচী একবার মিলিয়ে নেওয়া উচিত কারণ বিশেষ পরিস্থিতি বা রেলওয়ের পরিচালনাগত কারণে সময় পরিবর্তন হতে পারে। এছাড়া যাত্রার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছালে প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন বা অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সুবিধা হয়।
- অনলাইনে টিকিট কাটলে বুকিং তথ্য সংরক্ষণ করুন।
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
- মূল্যবান জিনিসপত্র নিজের কাছে রাখুন।
- ব্যস্ত মৌসুমে আগাম টিকিট বুকিং করুন।
- স্টেশনের ঘোষণাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নসমূহ (FAQ)
ভৈরব থেকে ঢাকা যেতে সবচেয়ে দ্রুত ট্রেন কোনটি?
বর্তমান সময়সূচী অনুযায়ী উপবন এক্সপ্রেস দ্রুততম ট্রেনগুলোর একটি, যা প্রায় ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছে।
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সর্বনিম্ন ভাড়া কত?
শোভন শ্রেণির আসনের ভাড়া ১০৫ টাকা থেকে শুরু হয়।
অনলাইনে টিকিট কাটা যায়?
হ্যাঁ। বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিং সিস্টেমের মাধ্যমে আগাম টিকিট বুক করা যায়। টিকেট কাটার জন্য ভিসিত করুন eticket.railway.gov.bd
ভৈরব থেকে ঢাকা যেতে কত সময় লাগে?
আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণত ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মধ্যে ঢাকা পৌঁছানো যায়।
প্রতিদিন কি সব আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে?
বেশিরভাগ আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করলেও কিছু ট্রেনের নির্ধারিত সাপ্তাহিক বন্ধের দিন রয়েছে। তাই যাত্রার আগে সময়সূচী যাচাই করা উচিত।
